প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।আমরা অত্যন্ত দুঃখিত এখানে আমরা কোন ওষূধের নাম উল্লেখ করি না । গ্রাহক, ডাক্তারের সাথে ফোনে কথা বলে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও পরামর্শ পেতে আমাদের প্রেসক্রিপশন প্যাকেজ থেকে প্রশ্ন করতে পারেন, প্রেসক্রিপশন প্যাকেজটি কিনতে এখানে ক্লিক করুন।  দাদ হল এক প্রকার এর ফাঙ্গাল ইনফেকশন। একে মেডিক্যাল টার্ম এ "টিনিয়া ক্রুরিস"। এ জাতীয় সব রোগেরই একটা সাধারণ উপসর্গ হচ্ছে শরীরে চুলকানির উদ্রেক। এই চুলকানির প্রবণতা বেশ তীব্র হয়ে থাকে যখন না চুলকালে আর ভালো লাগে না। বর্ষার ফাঙ্গাল ইনফেকশন সাধারণত শুরু হয় পায়ের আঙুল থেকে। ছোট্ট ফুসকুড়ি দিয়ে শুরু হয় উৎপত্তি, তারপর লাল হয়ে সেটা ছড়াতে থাকে।গোলাকার আংটির মতো আকৃতির এক ধরনের ফাঙ্গাস রয়েছে। এগুলো শরীরের যেকোনো স্থানের ত্বকে রিংয়ের আকার নিয়ে আবির্ভূত হয়। আক্রান্ত স্থানটি খুব চুলকায় ও পরে সেখান থেকে কষ ঝরে।এ ধরনের ফাঙ্গাস কুঁচকিতে খুব বেশি দেখা যায়। যারা সিনথেটিক ও টাইট অন্তর্বাস পরেন, বর্ষার সময় তাদের ক্ষেত্রে কুঁচকিতে ফাঙ্গাস ইনফেকশন বেশি হয়।  দাদ  একবার হলে যদি দ্রুত চিকিৎসা নেয়া হয় তাহলে ভাল হয়ে যায়।তবে যদি অনেক দিন চিকিৎসা না করা হয়, সারা শরীরে ছড়িয়ে  পড়তে পারে। সংক্রমণের ব্যাপ্তি ও ধরনের ওপর নির্ভর করে ফাঙ্গাসের চিকিৎসাপদ্ধতি। তবে সঠিক চিকিৎসায় যেকোনো ফাঙ্গাসই সারিয়ে তোলা সম্ভব। ফাঙ্গাস সংক্রমণ ঘটে গেলে সে ক্ষেত্রে ত্বকের উপরিভাগে অ্যান্টিফাঙ্গাল মলম ব্যবহার, ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সাসপেনশনধর্মী অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ সেবন করে ফাঙ্গাল ইনফেকশন থেকে সেরা ওঠা  সম্ভব।তাই আপনি একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শে ওষুধ গ্রহন করুন।    কিন্তু চিকিতসার পাশাপাশি আপনাকে   কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে , যেমনঃ ক্ষতস্থান বা আক্রান্ত স্থানে সাবান বা শ্যাম্পু লাগানো যাবে না। সাধারণ সাবান, শ্যাম্পু এই রোগগুলো আরো বাড়িয়ে দেয়।এ রোগের ক্ষেত্রে ওষুধ দেওয়া আলাদা সাবান ও শ্যাম্পু পাওয়া যায়। সামগ্রিকভাবে এক মাস বা দুই মাসের জন্য ওই সময়ে অন্য সাবান, শ্যাম্পু বন্ধ রেখে, এইসব বিশেষ সাবান বা শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হয় । এতে কোনো ক্ষতি করবে না। সাবান-শ্যাম্পুর কাজও হয়ে যায়। চুলকানি বা দাদ এর বিরুদ্ধে প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় গুলোঃ  চুলকাবেন না। যত বেশি চুলকাবেন ততই তা শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়বে। এছাড়া এটি আপনার অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে, ফলে যখন তখন বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হবে। ২. রোদে শুকানোঃ চুলকানি রোগ থাকা অবস্থায় আপনার বিছানাপত্র আলাদা করে রাখুন। এই রোগ সেরে গেলে বিছানাপত্র জামা কাপড় কড়া রোদে শুকিয়ে নিবেন যাতে অন্য কেউ আক্রান্ত না হতে পারে। ৩. অন্তর্বাস ব্যবহারঃ প্রতিদিন পরিষ্কার অন্তর্বাস ব্যবহার করুন। প্রতিদিন নতুন অন্তর্বাস পরুন সম্ভব না হলে একদিন ব্যবহারের পরেই ধুয়ে পরিষ্কার করে ভালো ভাবে রোদে শুকিয়ে নিন। অন্তর্বাস ধুয়ে পরিষ্কার করে রাখুন। ৬. টয়লেট ব্যবহারের পর করনীয়ঃ আক্রান্ত স্থান যথা সম্ভব শুষ্ক রাখার চেষ্টা করুন। প্রত্যেক বার টয়লেট ব্যবহারের পর বেশি করে পানি ব্যবহার করার সাথে সাথে মুছে আক্রান্ত স্থান শুষ্ক রাখা। ৭. সুতির অন্তর্বাস পরিধানঃ সুতির অন্তর্বাস পরিধান করুন। মনে রাখবেন অন্য কারো প্যান্ট, অন্তবাস পরিধান করা থেকে বিরত থাকুন। ৮. ঢিলে ঢালা পোশাকঃ বেশী টাইট পোশাক পরবেন না। গোপন অঙ্গে চুলকানি হলে ঢিলেঢালা পোশাক পরাই সবচাইতে ভালো।    বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ফাঙ্গাস সংক্রমণ প্রায় ১০০ ভাগ নিরাময় করা সম্ভব। তবে সেটা আবারো হতে পারে। কারণ ত্বকে ফাঙ্গাস বেড়ে ওঠার পরিবেশ সৃষ্টি হলে সেখানে ফাঙ্গাস বেড়ে উঠতে চেষ্টা করবে। তাই ফাঙ্গাস প্রতিরোধে যেসব ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তা হচ্ছে পা, আঙুলের ফাঁক,নখের গোড়া ভালো করে পরিষ্কার করা এবং শুষ্ক রাখা ।   আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। 

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও