প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।আপনার বয়স কত? এটি আপনার কত নম্বর প্রেগন্যান্সী? আপনার কত মাস প্রেগন্যান্সী চলছে? আমাদের বিস্তারিত জানাবেন।বেশীরভাগ নারীই নরমাল ডেলিভারি প্রত্যাশা করেন। তারপরও শারীরিক অবস্থার কারণে সিজার করানোর প্রয়োজন হতে পারে। কিছু বিষয় আপনাকে নিরাপদ প্রসবের অনেকটা নিশ্চয়তা দিতে পারে।প্রসবের চাপ সহ্য করার জন্য শ্রোণি অঞ্চলের পেশী ও উরুর পেশীকে শক্তিশালী করার জন্য ব্যায়াম করুন। কীভাবে এই ব্যায়াম করতে হয় না জানলে আপনার চিকিৎসকের সাহায্য নিন। মনে রাখবেন সঠিক পদ্ধতিতে ব্যায়াম না করলে আপনার ও আপনার বেবির ক্ষতি হতে পারে।স্ট্রেসকে এড়িয়ে চলা আসলেই খুব কঠিন। তারপর ও আপনাকে চেষ্টা করতে হবে। গর্ভাবস্থায় আপনি যদি আপনার মনকে প্রশিক্ষিত করতে পারেন স্ট্রেস মুক্ত থাকার জন্য তাহলে ডেলিভারির সময়টাতেও স্ট্রেস মুক্ত থাকাটা খুব কঠিন হবেনা। প্রসবের সময় স্ট্রেস অনুভব করলে অক্সিটোসিন হরমোনের উৎপাদন কমে যায়। এই হরমোনটি প্রসবের সময় সংকোচন ঘটায়। স্ট্রেসের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে প্রসব দীর্ঘায়িত হয়। তাই স্ট্রেস মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। সঠিক ভাবে দমচর্চা করলে স্ট্রেসের মাত্রা কমতে সাহায্য করে, এনার্জিকে উদ্দীপিত করে এবং গর্ভস্থ শিশুর বৃদ্ধি ও গঠনের উন্নতিতে সাহায্য করে। দম চর্চার ফলে শিশু পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় এবং প্রসবের সময় মায়ের সাথে সহযোগিতা করতে পারে। এজন্য নিয়মিত দম চর্চা করুন।প্রেগনেন্সি, প্রসব ও শিশুর জন্মের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে খাবার। কিন্তু খাওয়া নিয়ে প্রচলিত মিথ এড়িয়ে চলুন, যেমন- গর্ভাবস্থায় ঘি বা তেল গ্রহণ করলে শিশু খুব সহজেই ভূমিষ্ঠ হয়। মনে রাখবেন পরিপাক নালীর সাথে বার্থ ক্যানেলের কোন সম্পর্ক নাই। পুষ্টিকর খাবার খাওয়া আপনাকে সুস্থ রাখতে ও শক্তিশালী করতে এবং শিশুর বৃদ্ধি ও গঠনের উন্নতিতে সাহায্য করে। একজন সুস্থ মায়ের স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেয়ার সম্ভাবনা থাকে। সঠিক পুষ্টি ভ্রূণকে জন্ম প্রক্রিয়ার স্ট্রেস সহ্য করতে সাহায্য করে। কিন্তু আপনার ওজন যেন অস্বাভাবিক পর্যায়ে না চলে যায় সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ অধিক ওজন স্বাভাবিক প্রসবকে বাঁধাগ্রস্থ করতে পারে।তাছাড়া প্রেগনেন্সির সময়টাতে হাঁটুন। কারণ হাঁটলে অবসাদ দূর হয়। আপনার পক্ষে যদি অনেকক্ষণ হাঁটা সম্ভব না হয় তাহলে অল্প দূরত্বে কিছুক্ষণের জন্য হলেও হাঁটুন।তবে কিছু পরিস্থিতি চলে আসে যখন মা নরমাল ডেলিভেরি এর প্রেশার টা নিতে পারে তখন সিজারে যেতেই হয়ঃ১। গর্ভস্থ শিশুর মাথার আয়তন যদি প্রসব রাস্তার চেয়ে বড় হয় তখন সিজার করা ছাড়া কোন উপায় থাকে না। কারন যদি এই মুহূর্তে আপনি সিজার না করান তাহলে মায়ের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই ৯ মাসের সময় বাচ্চার মাথার সাইজ বা ডক্টরের সাথে কথা বলে নিন যে সিজারের দরকার হবে কিনা।২। গর্ভবতী মায়ের প্রসবের রাস্তায় যদি কোন টিউমার থাকে তাহলে সিজার করানো সব চেয়ে ভালো না হলে মায়ের অনেক কষ্ট হতে পারে এমন খুব বড় ধরনের দুর্ঘটনাও ঘটতে পারে।৩।অতীতে জরায়ু মুখে বা প্রসব রাস্তায় কোন সমস্যা হলে সিজার করা সব চেয়ে ভালো।৪। যদি গর্ভবতী মা স্বাভাবিকের চেয়ে দুর্বল হয়ে থাকেন অথবা তিনি শারীরিক ভাবে একটু দুর্বল থাকেন তাহলে নরমাল ডেলিভেরি তে না যাওয়া ভালো। কারন বাচ্চা প্রসবের সময় যে ব্যথা বা যন্ত্রণা হবে সেটা সহ্য করার শক্তি যদি না থাকে তাহলে সিজা করিয়ে নেয়াই খুব ভালো হবে। এই জন্য আগে থেকে ডক্টরের সাথে পরামর্শ করে নিতে হবে।৫। শিশু যদি মায়ের পেটে সঠিক অবস্থানে না থাকে তখন অবশ্যই সিজার করতে হবে। এটা আল্ট্রাসনগ্রাম করে আগেই জেনে নিতে হবে বাচ্চার অবস্থান। যদি বাচ্চা সঠিক অবস্থানে না থাকে তাহলে আগে থেকেই ধরে নিতে হবে যে সিজার করতে হবে।৬। যদি কখনো দেখেন যে নাভি রজ্জু যেটা কে আম্বিলিক্যাল কর্ড বলে, যদি প্রসব পথে বেড়িয়ে আসে তাহলে অবশ্যই সিজার করাবনে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই বলে থাকে, বিশেষ করে অনভিজ্ঞ ডক্টর রা , যে নরমাল ডেলিভেরি করা যায় কিন্তু এই সময় ভুলেও এই কাজ করবেন না, অবশ্যই সিজার করাবেন।৭। গর্ভবতী মায়ের যদি হাই ব্লাড প্রেশার, ডায়বেটিকস থাকে তাহলে আগে থেকেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখুন যে আপনাকে সিজার করাতে হবে। কারন এই ধরনের মায়েদের সিজার করানো দরকার সবার আগের। ৮। প্রসবের আগে কোন কারনের যদি দেখেন মায়ের প্রসব রাস্তা দিয়ে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে তাহলে সিজার করানো খুব দরকার। কারন মনে রাখবেন কোন রকমের ঝুকি ই কেউ নিতে চাইবে না যখন কোন কিছু অস্বাভাবিক হবে।৯। ৬ থেকে ১৪ ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করছেন কিন্তু স্বাভাবিক ভাবে বাচ্চা হচ্ছে না তার মানে কোন একটা সমস্যা হচ্ছে যার কারনের স্বাভাবিক পথে বাচ্চা হচ্ছে না। তাই এই সময় টাতে আপনারা কেউ দেরি করবেন না সিজার করিয়ে ফেলবেন যদি ডক্টর আপনাদের কে পরামর্শ দিয়ে থাকেন।গর্ভাবস্থার প্রতিটা মুহূর্ত একজন মা ও তার পরিবারের জন্য খুব ই গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের নেয়া প্রতিটা সিদ্ধান্ত একজন সুস্থ মা ও তার অনাগত সন্তানের জীবনের ভিত্তি। তাই এই সময় টাতে ডক্টরের কথা খুব ভালো করে মেনে চলবেন। মনে রাখবেন নরমাল ডেলিভেরি সবার কাম্য কিন্তু কিছু কিছু পরিস্থিতিতে নরমাল ডেলিভেরি জীবনের জন্য অনেক ঝুকির কারন হয়ে থাকে। তাই সব কিছুর দিকে ভালো ভাবে খেয়াল করুন।আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি।পাশে আছি সবসময়, মায়া।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও