প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার বয়স কত ? আপনার পিরিয়ড নিয়মিত হয় ? আপনি কি কোন জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার  করতেন ? জানান। গ্রাহক, স্বাভাবিক ভাবে পিরিয়ড ২-৭ দিন স্থায়ী হয়। আপনার পিরিয়ড ২ দিন স্থায়ী হলে, তা স্বাভাবিকই আছে। গ্রাহক, বেদনাদায়ক পিরিয়ডকে dysmenorrhoea বলা হয়। বেদনাদায়ক পিরিয়ড মহিলাদের মধ্যে খুব কমন।  সাধারণত  তলপেটে অনুভূত হয় এবং তা উরুর ভেতরের দিকে ছড়িয়ে যায়।কিছুক্ষণ পর পর কামড়ানো ব্যথা হয়।তলপেট ছাড়া কোমরেও ব্যথা হয় এবং পা কামড়ায়, এমনকি মাথা ব্যথাও হতে পারে। ব্যথার পাশাপাশি বমি ভাব, বমি এমনকি ডায়রিয়াও হতে পারে।  এই ব্যাথা  পিরিয়ড শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে শুরু হয় এবং চলাকালীন সময়ে কয়েকদিনের  মধ্যে থেমে যায়। এই ব্যাথা কমার জন্য আপনি  ঘরে বসে নীচের বিষয়গুলো চেষ্টা  করতে পারেন— *Hot compression—গরম পানির বোতল,  গরম প্যাড দিয়ে পেটে সেক দিন * গরম পানি দিয়ে গোসল করুন * পুষ্টিকর খাবার খাবেন * প্রচুর পানি খাবেন * নিয়মিত ব্যায়াম করুন * পর্যাপ্ত পরিমানে বিশ্রাম নিন *দুঃশ্চিন্তা কমান এবং মেডিটেশন করুন। ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল খেতে পারেন এরপরেও যদি আপনার ব্যাথা তীব্র  থাকে এবং স্বাভাবিক জীবন-যাত্রায় বিঘ্ন ঘটে, হঠাৎ তীব্র পেটের ব্যাথা শুরু হয় যা আপনার আগে কখনো হয়নি তখন একজন স্ত্রী-রোগ বিশেষজ্ঞের  সাথে দেখা করুন। Dysmenorrhoea এর অনেক কারন থাকতে পারে এই কারন গুলো কে দুইভাগে ভাগ করা হয়ঃ  ১) প্রাইমারিঃ যেটা বলা হয় অতিরিক্ত হরমনের কারনে এরকম হয়ে থাকে হরমোনটির নাম হল prostaglandin। এই হরমোন জরায়ুকে সংকুচিত করায় অধিক পরিমানে এই হরমোন নিঃসৃত হলে মাসিকের সময় ব্যথা হতে পারে ।  ২) সেকেন্ডারিঃ এর মধ্যে কয়েকটি কারন আছেঃ fibroid এটি জরায়ুর মাংসপেশির এক রকম টিউমার। adenomyosis এটি জরায়ুর টিউমার। জরায়ুর ইনফেকশন pelvic inflammatory disease or যেকোন sexually transmitted disease ডিম্বাশয়ের সিস্ট ইত্যাদি অনেক কারণই থাকতে পারে কিন্তু আপনার কোন কারনে হচ্ছে সেটা পরীক্ষা নিরীক্ষা না করে বুঝা সম্ভব না । আপনি এই বিষয়ে একজন gynecologist এর সাথে পরামর্শ করুন। গ্রাহক ,কনসিভ করার আগে যে কথাটি মনে রাখতে হবে তা হলো হতাশ হওয়া যাবে না. এরজন্য আপনাকে  সকল  টেনশন থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চেষ্টা করতে হবে . সবসময় পুষ্টিকর খাবার এবং প্রচুর পানি খেতে হবে . যথেষ্ট বিশ্রাম নিতে হবে। গ্রাহক, কোন ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রনের ব্যবস্থা ছাড়া নিয়মিত ১ বছর শারীরিক মিলনের পরও কোন দম্পতির যখন সন্তান হয় না তখন তাকে বন্ধ্যত্ব বলে।সাধারন ভাবে ১ বৎসর চেষ্টা করেও গর্ভধারণ না হলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া যেতে পারে। যে মেয়েদের বয়স ৩৬ এর বেশি বা কোন কারনে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে বলে সন্দেহ করছেন, তারা আগেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে পারেন। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সম্ভাব্য কারন গুলো পরীক্ষা করে দেখবেন এবং সে অনুযায়ী আপনাকে ব্যবস্থাপনা দিবেন। কারনসমূহঃ অনেক গুলো সম্ভাব্য কারন আছে, এবং এটা স্ত্রী, পুরুষ উভয়েরই হতে পারে। মূল কারন অনেক সময়ই খুজে পাওয়া যায় না। #মেয়েদের ক্ষেত্রে প্রধান কারন গুলো হলো - অতিরিক্ত ওজন, হরমনের তারতম্য ঠিকমত ডিম্বস্ফুটন (ovulation) না হওয়া, polycystic ovarian syndrome, ডিম্ববাহী নালীতে কোন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়া এবং এন্ডোমেট্রিয়সিস (endometriosis)। #পুরুষের ক্ষেত্রে বন্ধ্যত্বের কারন হলো বীর্য সংক্রান্ত। দেখা গেছে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করলে, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করালে বন্ধ্যত্ব প্রতিরোধ করা যায়। চিকিৎসাঃ বন্ধ্যত্বের যে সকল চিকিৎসা রয়েছে তা হল ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা, অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসা,বিশেষ ব্যবস্থায় গর্ভধারণের ব্যবস্থা করা যেমন IUI (Intra Uterine Insemination) বা IVF (In vitro fertilisation) । আপনার কারন অনুযায়ী যে চিকিৎসা আপনার জন্য প্রযোজ্য সে চিকিৎসাই আপনাকে দেয়া হবে। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া কে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া । 

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও