আমি একটা সম্পর্কে আছি,  এবং আমি তাকে অনেক ভালোবাসি। সম্পর্কের এতোদিন পরেও আমার তার প্রতি সম্মান বা ভালোবাসা কোনোটাই এক ফোঁটা কমে নি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমি তাকে যেভাবে ভালোবাসি সে আমাকে তেমন ভাবে ভালোবাসে না। সে আমাকে ঠিকঠাক মতো ফোন দেয় না, কথা বা যোগাযোগ কম রাখতে পছন্দ করে এবং আমি ফোন দিলেও ফরমাল কথাবার্তা বলে সে চুপ করে থাকে, তার ধারণা কথা বললে নিজে স্পেস থাকে না, যদিও তাকে যথেষ্ট স্পেস দেই। এদিকে তার প্রতি আমি এতোটাই অভ্যস্ত হয়ে গেছি যে কথা না বলে আমি থাকতে পারি না কোনোভাবেই। তার সব রিকোয়েস্ট, কথা আমি শুনি, কিন্তু আমার কোনো রিকোয়েস্ট রাখতে হলে সে খুব বিরক্ত হয়..তাকে বারবার কথা বলার জন্যে রিকোয়েস্ট করায় সে নাকি আমার উপর বিরক্ত হয়ে গেছে। আমি জানি না আমি কি করবো, আমি মানসিকভাবে প্রচন্ড ভেঙে পড়ছি, আমার প্রতি তার উদাসীনতা দেখে দেখে নিজেকে সামলাতে পারছিনা। রাগে, জিদে কখনো জিনিস ভাঙছি, কখনো সেল্ফ হার্ম করছি,  মাথায় সুইসাইডাল চিন্তাভাবনা ঘুরে সারাক্ষণ,  মনে হয় মরে গেলেই বোধহয় ভালো হতো। আমি জানি একটা মানুষের জন্য এভাবে ডিপ্রেসড হয়ে যাওয়া টা একেবারেই অযৌক্তিক, কিন্তু আমি হয়ে গেছি এখন, যা থেকে নিজেকে বের করতে কোনোভাবেই পারছিনা। আমার শুধু মনে হয় একটা বার যদি আমাকে সে ভালোবাসতো যেভাবে আমি তাকে বাসি, একটা বার যদি আমাকে সে খুঁজতো যেভাবে আমি তাকে খুঁজি। আমি জানি না কি করবো আমি!   I need a solution, maybe I need a therapist and some therapy session.. what to do now???

প্রিয় গ্রাহক আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। আপনার ভালোবাসার মানুষ আপনার সাথে কথা বলছে না,এড়িয়ে যাচ্ছে।কাউকে ভালোবাসলে আমরা চাই সেও আমাদের ভালোবাসুক,গুরুত্ব দিক।কিন্তু এরকমটা না হলে কষ্ট পাওয়াটাই স্বাভাবিক।গ্রাহক সে কেন আপনার সাথে কথা বলতে চাইছে না তা কি আপনি জিজ্ঞেস করেছেন?সে কেন আপনাকে ইগনোর করছে?আপনি তার এরকম আচরণের কারণ তার কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন।তাকে জানাতে পারেন যে তার এরকম আচরণে আপনি কতটা কষ্ট পাচ্ছেন।তিনি আপনাদের সম্পর্কটির ভবিষ্যৎ নিয়ে কি ভাবছেন তাও তার কাছ থেকে জেনে নিতে পারেন।আমি একটু হলেও অনুভব করতে পারছি যে এই সময় আপনি অনেক একা অনুভব করছেন। আপনি ভালো থাকতে পারছেন না। আমি বুঝতে পারছি যে যেহেতু আপনি তাকে অনেক ভালোবাসেন ও তার সাথে আপনার কথা বলতে ভালো লাগে এটা অনেকটা আপনার অভ্যাসও ছিল। তাই হঠাৎ করে তার সাথে কথা বলতে না পারায় আপনার কষ্ট হওয়ারই কথা। কিন্তু আপনি যে এই কষ্টকর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য পদক্ষেপ নিতে চাচ্ছেন ও আমাদের কাছে প্রশ্ন করেছেন এটা আপনার সচেতনতাই পরিচয় দেয়। যা আপনার খুবই একটি ইতিবাচক দিক। আমি বুঝতে পারছি যে আপনি নিজেকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ভালো থাকার জন্য নিজেকে গুরুত্ব দেয়াটা খুবই প্রয়োজন। আর আপনি নিজেকে গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেই আপনি কিভাবে ভালো থাকতে পারবেন সেটা জানান চেষ্টা করছেন।নিজের মতো করে ভালো থাকার জন্য আপনি নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন। যে সময় গুলো আপনি তার সাথে কথা বলার জন্য রাখেন কিন্তু বলতে পারেন না সেই সময় গুলোতে আপনি নিজের শখের কাজগুলো বা ভাললাগার কাজগুলো বেশি বেশি করতে পারেন। নিজেকে বিভিন্ন রকম সৃজনশীল কাজে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করতে পারেন। নতুন কিছু শিখতে পারেন। এটা একদিকে যেমন আপনার স্কিল বাড়াবে তেমনি আপনাকে নিজের প্রতি অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে।আপনি কি ভেবে দেখতে পারেন যে ভালবাসার মানুষকে সময় দিতে যেয়ে আপনি আপনার কাছের কোন মানুষ গুলোকে কম সময় দিয়েছেন।এবার একটু তাদের প্রতি মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। তাদেরকে সময় দিতে পারেন। এভাবে আস্তে আস্তে আপনি অন্যের প্রতি নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে সক্ষম হবেন ও নিজের মতো করে ভালো থাকতে পারবেন বলে আশা করছি। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। ধন্যবাদ। মায়া।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও