প্রিয় গ্রাহক, আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। মাথা ব্যথা নানা রকমের! টেনশন কিংবা দুশ্চিন্তা জনিত মাথা ব্যথা, মাইগ্রেন, ক্লাস্টার , সাইনাস কিংবা চক্ষু জনিত মাথা ব্যথা। হরমোন জনিত মাথা ব্যথা, মগজের ভিতর রক্তপাত, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদি কারণে মাথা ব্যথা হয়। টেনশন জনিত মাথা ব্যথা মাথার উভয় দিকে হয়। মাথায় তীব্র চাপ অনুভূত হয় এবং ব্যথা ঘাড়ে সংক্রমিত হতে পারে। মানসিক চাপে ব্যথা বাড়তে পারে। পুরুষ, মহিলা সমান ভাবে আক্রান্ত হয়। লক্ষণ সমূহ মাথা ব্যথা সাধারণত মাথার পিছনে দুই দিকে ও ঘাড়ে অনুভূত হয়। মাথা ব্যথা সপ্তাহব্যাপী কিংবা মাসব্যাপী স্থায়ী হয়। তবে ব্যথার তীব্রতা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকমের হতে পারে। মাথা ব্যথা দিনের যেকোনো সময় হতে পারে। মাথায় চাপ অনুভূত হয়। কিন্তু ব্যথার সাথে কখনো জ্বর থাকে না। চিকিত্সা সাধারণত বেদনা নাশক দ্বারা চিকিত্সা করা হয়। মাইগ্রেন শতকরা ১০/১৫ ভাগ লোক এধরণের মাথা ব্যথায় আক্রান্ত হয়। মাইগ্রেন মহিলাদের বেশী হয়। সাধারণত: ১৫/১৬ বছর বয়স থেকে মাইগ্রেনের লক্ষণ দেখা দেয় এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে ৪০/৫০ বছর বয়স পর্যন্ত স্থায়ী হয়। মাইগ্রেনের আক্রমণের সময় মগজের রাসায়নিক বাহক serotonin এর মাত্রা বেড়ে যায় এবং মাথা বাইরের ধমনী গুলো প্রসারিত হয়। লক্ষণ সমূহ ১. মাথা ব্যথা সাধারণত মাথার এক দিকে হয়। তবে ব্যথা সমস্ত মাথায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। ২. মাথা ব্যথার সাথে বমি বমি ভাব হয়, এমনকি বমিও হতে পারে। ৩. রোগী তখন আলো সহ্য করতে পারে না। ৪. এধরণের মাথা ব্যথা কয়েক ঘন্টাব্যাপী চলতে পারে, কিন্তু সারাদিনব্যাপী খুব কম হয়। ৫. মাইগ্রেন রোজ, সপ্তাহব্যাপী কিংবা মাসব্যাপী হতে পারে। ৬. দুশ্চিন্তা, মদ্যপানে মাথা ব্যাথা বেশী হয়। পনি, চকোলেট ইত্যাদি খাবারেও মাথা ব্যথা বেশী হয়। ঘুমালে মাথা ব্যথা কমে যায়। ৭. মাইগ্রেনের বংশগত ইতিহাস থাকতে পারে। ৮. সাধারণত কোন স্নায়ুবিক উপসর্গ থাকে না। চিকিত্সা যেসব কারণে মাইগ্রেনের আক্রমণ বৃদ্ধি পায়, তা পরিহার করতে হবে। স্বল্পস্থায়ী চিকিৎসা হিসাবে aspirine কিংবা paracetamol এর সাথে antiemetic যেমন prochlorperazine, metoclopramide দেয়া যেতে পারে। ঘন ঘন আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে প্রতিরোধকারী হিসাবে propanol, Pizotifen কিংবা amitriptyline দেয়া যেতে পারে। সাইনাস এর মাথা ব্যথা যাদের ঘন ঘন সর্দি কাশি হয়, তাদের sinusitis থেকে এধরণের মাথা ব্যথা হয়ে থাকে লক্ষণ সমূহ ১. ঠান্ডা কিংবা সর্দি কাশি লাগার সময় কিংবা পরে থেকে এধরণের মাথা ব্যথা শুরু হয়। ২. ব্যথা মুখ মন্ডলের কিংবা মাথার কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে। ৩. মাথা ব্যথা সকালের দিকে বেশী হয়। ৪. হাঁচি কাশি দিলে ব্যথা বেশী হয়। হঠাত্ করে মাথা নাড়লেও ব্যথা বেশী হয়। ৫. শীতকালে বেশী হয়। ৬. রোগ নির্ণয়ের জন্য এক্সরে বা সিটি স্ক্যান করতে হবে। চিকিৎসাঃ যতদ্রুত সম্ভব একজন নাক, কান, গলারোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিন, নাকের ড্রপ এবং ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। যদি ওষুধপত্রে এই রোগ নিরাময় না হয় তবে সাইনাসের ওয়াশ বা আরও বড় ধরনের অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে। চক্ষু জনিত মাথা ব্যথা শতকরা ৫ ভাগ মাথা ব্যথা চক্ষু জনিত। চোখের দৃষ্টি শক্তি কম থাকলে মাথা ব্যথা হতে পারে। অনেক ক্ষণ পড়াশোনা করা, সেলাই করা, সিনেমা দেখা কিংবা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও মাথা ব্যথা হতে পারে। চোখের কোন রোগ যেমন কর্ণিয়া, আইরিশের প্রদাহ, গ্লুকোমা এবং রেট্রোবালবার নিউরাইটিস ইত্যাদি কারণে মাথা ব্যথা হতে পারে। চক্ষু জনিত মাথা ব্যথা সাধারণত চোখে, কপালের দু’দিকে কিংবা মাথার পিছনে হয়ে থাকে। চক্ষু জনিত মাথা ব্যথায় চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। আশা করি আপনাকে সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে, মায়া আপাকে জানাবেন, রয়েছে পাশে সবসময়, মায়া।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও