প্রিয় গ্রাহক,আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ।পড়তে বসলে ঘুম আসার পেছনে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক কারণ খুঁজে বের করেছেন।প্রথমত, বই পড়তে গেলে চোখ সবসময় বইয়ের পাতার দিকে নিবদ্ধ রাখতে হয়, এবং প্রতি মুহূর্তে চোখকে বাম থেকে ডান দিকে, আবার ডান থেকে বাম দিকে ঘোরাতে হয়। শুধু তা-ই না, চোখ যেসব দেখে, সেগুলোর মাধ্যমে মস্তিষ্ককে অর্থবোধক শব্দ, বাক্য ও অনুচ্ছেদও তৈরি করে নিতে হয়, এবং সেগুলো দ্বারা কী বোঝানো হচ্ছে, তা-ও অনুধাবন করতে হয়। আবার পাঠ্যপুস্তক পড়ার সময় বাড়তি চাপ হিসেবে যোগ হয় পঠিত বিষয়বস্তুকে ভবিষ্যতের জন্য মনে রাখার চ্যালেঞ্জ। এভাবে পড়ার সময় ক্রমাগত নাড়াচাড়ায় চোখের পেশি যেমন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তেমনই একসাথে অনেকগুলো কার্য সম্পাদন করতে গিয়ে মস্তিষ্কও ওঠে হাঁপিয়ে। তখন চোখ ও মস্তিষ্ক উভয়েরই বিশ্রামের প্রয়োজন পড়ে। তাই তো ধীরে ধীরে চোখের পাতা ভারি হয়ে আসে, এবং মস্তিষ্কে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধ হতে থাকে।পড়তে বসে যাতে ঘুম না আসে, তা নিশ্চিত করার বেশ কিছু কার্যকরী উপায় আছে। সেগুলো হলোঃ১। পানি ব্যবহারপড়তে পড়তে যখনই ঘুম আসবে তখনই চোখ মুখ ধুয়ে নিন। এক্ষেত্রে আপনি যদি ফ্রিজের ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে পারেন তবে খুব বেশি কাজ হবে।২। পড়ার জায়গাআপনারা অনেকেই পড়ার সময় বিছানায় শুয়ে শুয়ে পড়েন। যেটা একটা প্রধান ভূল। আপনাদের মাইন্ড আপনাদের শারীরিক মুভমেন্ট সব সময় অনুসরণ করে। আপনার শরীরের অবস্থা কেমন আছে সেটা দেখেই আপনার মাইন্ড আপনাকে চালিত করে। আপনি যখন দৌড়ান তখন আপনার মাইন্ডও দৌড়ানোর দিকেই থাকে। তাই তখন আপনার ঘুম পায় না। আবার যখন আপনি স্কুল থেকে বাসায় আসেন, রিলাক্স অবস্থায় ছোপায় বসেন তখন আপনার ঘুম চলে আসে। যেহেতু আপনার শরীর রিলাক্স অবস্থায় থাকে তাই মন ভাবে এটা রিলাক্স করার সময়। তাই তখনই আপনার ঘুম চলে আসে। আপনি যখন বিছানায় বসে পড়েন তখন মন ভাবে এটা নিশ্চয়ই ঘুমানোর সময়। তাই আপনার ঘুম চলে আসে। ঘুমকে তাড়ানোর জন্য অবশ্যই বিছানায় পড়ার ত্যাগ করুন। এর পরিবর্তে আপনি চেয়ার টেবিল ব্যবহার করতে পারেন।৩। হাটা এবং পড়াআপনি একটি বই হাতে নিন আর দাড়িয়ে দাড়িয়ে পড়াটা পড়ুন। এটি অনুসরণ করলে আপনি অবশ্যই ঘুম থেকে মুক্তি পেয়ে যাবেন। সব সময় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়ার প্রয়োজন নাই। যখন আপনার ঘুম আসবে তখন আপনি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পড়তে পারেন।৪। মাঝে মাঝে ছোট বিরতিএকটানা পড়ার পর যখন ঘুম আসবে তখন কিছুক্ষন এর জন্য পরিবারের কারো সাথে গল্প করতে পারেন।এতে ঘুমটা চলে যাবে।৫। শব্দ করে পড়াপড়ার সময় মনে মনে পড়লে ঘুম আসার প্রবণতা বেড়ে যায় তাই শব্দ করে পড়ার চেষ্টা করতে পারেন।৬।চা বা কফি পানপড়ার মাঝে চা বা কফি জাতীয় কিছু পানীয় খেতে পারেন।তাহলে ঘুম আসবে বলে আশা করছি। আশা করি কিছুটা সাহায্য করতে পেরেছি। আর কোন প্রশ্ন থাকলে মায়াকে জানাবেন। আপনার প্রয়োজনে রয়েছে পাশে সব সময় মায়া।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও