প্রিয় গ্রাহক, আপনার অসুবিধার কথা শেয়ার করার জন্য ধন্যবাদ। যেকোন অসুবিধা থেকে বের হয়ে আসার জন্য প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে ব্যক্তির সচেতনতা। আপনি নিজে উদ্দোগী হয়েছেন এব্যাপারটি ইতিবাচক। বিষণ্ণতার কারণে আপনার কি কি অসুবিধা হচ্ছে বিস্তারিত জানাবেন কি? সাধারণত ডিপ্রেশনে দিনের বেশিরভাগ সময় মন খারাপ থাকা, দৈনন্দিন কাজের প্রতি আগ্রহ ও তৃপ্তি কমে যাওয়া, খাওয়া ও ঘুম কম বা বেশি হয়ে যাওয়া, অস্থিরতা, এনার্জি কমে যাওয়া, পূর্বের তুলনায় বেশি ক্লান্তি অনুভব করা, মনোযোগে অসুবিধা, সিদ্ধান্ত নিতে অসুবিধা, অনেক বেশি নেতিবাচক চিন্তা ইত্যাদি দেখা যায়। আপনার কি ধরণের অসুবিধা হচ্ছে বিস্তারিত জানাবেন আশা করি। মানুষ যখন বিষণ্ণতায় থাকে তখন নিজের সম্পর্কে, ভবিষ্যত ও অন্যদের সম্পর্কে অনেক বেশি নেতিবাচক চিন্তা আসে। যেমনঃ কেউ আমাকে ভালবাসে না, আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না, আমি কিছুই পারব না, আমার অবস্থা ঠিক হবে না এধরণের অনেক চিন্তা আসতে পারে। গ্রাহক, আমরা কেমন অনুভব করব তার অনেকটাই নির্ভর করে আমাদের চিন্তার ধরণের উপর। নেতিবাচক চিন্তা করতে থাকলে আমাদের মনের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে যার কারণে আমরা কষ্ট, হতাশা, বিষণ্ণতা ইত্যাদি অনুভব করি এবং সে অনুযায়ী আমাদের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন শারীরিক পরিবর্তন হয়। যার কারণে দেখা যায় আমরা দৈনন্দিন কাজ ও জীবনের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। নিজের নেতিবাচক চিন্তাগুলোকে পরিবর্তন করে ইতিবাচক চিন্তা করার চেষ্টা করতে হবে। সেক্ষেত্রে কি ধরণের চিন্তা করছি তা সনাক্ত করা খুবই প্রয়োজন। এবং যে চিন্তাগুলো করছি তার সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। বেশিরভাগ সময়েই দেখা যায় আমরা যে ধরণের নেতিবাচক চিন্তা করে কষ্ট পাই বা বিষন্ন হয়ে থাকি সেগুলোর সত্যতা থাকে না। তাই চিন্তাগুলো সনাক্ত করে বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জ করে সত্যতা যাচাই করতে পারেন। যেমনঃ এই চিন্তাগুলো আমাকে কিভাবে সাহায্য করছে, এই চিন্তা করার সুবিধা অসুবিধা কি, কি প্রমাণ আছে আমি যেভাবে ভাবছি সেটিই সত্যি হবে, আমি যা ভাবছি তার বিকল্প কি হতে পারে? ইত্যাদি প্রশ্নের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করতে পারেন। যদি এমন দেখা যায় যে একই ধরণের চিন্তা বারবার করা হচ্ছে সেক্ষেত্রে নিজেকে অন্য কোন কাজের মধ্যে রেখে ডিস্ট্রাকশন করতে পারেন। মাইন্ডফুলনেস প্র্যাক্টিস করতে পারেন। যেমনঃ সে মুহূর্তে যে কাজটি করছেন তা সচেতনভাবে পর্যবেক্ষণ করা। যে খাবারটি খাচ্ছেন তার স্বাদ, ঘ্রাণের দিকে মনোযোগ দিয়ে খাওয়া, হাত দিয়ে কাজ করার সময় স্পর্শ বোঝার চেষ্টা করা। সামনের জিনিসপত্রের কালার পর্যবেক্ষণ করা ইত্যাদি। এছাড়া আপনি যে নিঃশ্বাস নিচ্ছেন এবং ছাড়ছেন সেটিও খেয়াল করতে পারেন। এড়িয়ে চলা সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তা সমস্যাকে মেইনটেইন করে।যেসব কাজ এড়িয়ে চলছেন তা করার চেষ্টা করুন। দৈনন্দিন জীবনের একটি সাধারণ রুটিন রাখার চেষ্টা করুন। যদিও আপনার অনুভূতির কারণে নিয়ন্ত্রণহীন মনে হতে পারে তবুও চেষ্টা করুন যতটা সম্ভব ধাপে ধাপে কাজ ভাগ করে নিয়ে রুটিন স্বাভাবিক রাখার। প্রতিদিন রোদে বা প্রাকৃতিক পরিবেশে অন্তত ৩০ মিনিট সময় ধরে থাকার চেষ্টা করুন। যেসব কাজ করে আনন্দ পান তেমন কাজ আবার শুরু করার চেষ্টা করুন, কাজটি যত ছোটই হোক না কেন। প্রথমে তেমন কোন পার্থক্য মনে না হলেও ধীরে ধীরে আপনার ভাললাগা বৃদ্ধি পাবে। প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘন্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন। পর্যাপ্ত খাওয়াদাওয়া করুন। পর্যাপ্ত পানি পান করুন। শরীর ভাল থাকলে তা আমাদের মনকেও ইতিবাচকভাবে প্রাভাবিত করে। যেসব কাজ আপনার খারাপ লাগার অনুভূতি বাড়ায় তা করা থেকে বিরত থাকুন। যেমনঃ কষ্টের গান শোনা। নিজের খারাপ লাগার কথা বিশ্বস্ত কোন কাছের মানুষের সাথে শেয়ার করতে পারেন যিনি গোপনীয়তা রক্ষা করবেন। পরিবারের বিশ্বস্ত কারও সহযোগীতা নিতে পারেন।গ্রাহক, আপনি প্রতিদিনের পড়া ভাগ করে নিতে পারেন যে এতটুকু আজ পড়বো এবং ধাপে ধাপে তা শেষ করতে পারেন। ৩০ মিনিট পড়ার পর কয়েক মিনিট বিরতি নিতে পারেন। এ সময়ে আপনি কোন পছন্দের কাজ বা নিঃশ্বাসের ব্যায়াম করতে পারেন ( যেভাবে করবেন - বুক ভরে শ্বাস নিন, ৫ সেকেন্ড ধরে রাখার চেষ্টা করুন এরপর ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ুন।এভাবে কয়েক মিনিট অনুশীলন করুন )। নিঃশ্বাসের ব্যায়াম আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি স্বাভাবিক রাখার মাধ্যমে শরীর ও মনকে শান্ত রাখতে সাহায্য করে। নির্দিষ্ট পরিমাণ পড়া শেষ করতে পারলে নিজেকে পুরষ্কৃত করতে পারেন। এতে করে আপনার পড়ার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। আশা করি আপনাকে কিছুটা সহযোগীতা করতে পেরেছি। নতুন কোন প্রশ্ন থাকলে করতে পারেন। মায়া আছে আপনার পাশে।

আপনার কোনো প্রশ্ন আছে?

মায়া অ্যাপ থেকে পরিচয় গোপন রেখে নিঃসংকোচে শারীরিক, মানসিক এবং জীবনধারা বিষয়ক যেকোনো প্রশ্ন করুন, বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


মায়া অ্যাপ ডাউনলোড করুন

প্রশ্ন করুন আপনিও